প্রীতম দাস::
শাল্লা উপজেলার চাকুয়া গ্রামের অসহায় স্বাধীন ও শ্রীমতী সূত্রধর দম্পতির তিন প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে জীবন সংগ্রামের খবর দৈনিক সুনামকণ্ঠে প্রকাশের পর দুই সন্তানের চলাচলের সুবিধার্থে হুইল চেয়ার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবন্ধী ভাতা থেকে বঞ্চিত মেয়ে সৃষ্টি সূত্রধরের ভাতা চালুর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে জেলা প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের উদ্যোগে দুই প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য স্বাধীন সূত্রধরের হাতে হুইলচেয়ার তুলে দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক নিবাস রঞ্জন দাশ, জেলা প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের কনসালটেন্ট ডা. মোহাম্মদ তানজিল হক এবং দৈনিক সুনামকণ্ঠের স্টাফ রিপোর্টার প্রীতম দাস। হুইলচেয়ার হস্তান্তরকালে ডা. মোহাম্মদ তানজিল হক বলেন, দৈনিক সুনামকণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে আমরা পরিবারটির অসহায়ত্ব ও প্রয়োজনের বিষয়টি জানতে পারি। বিষয়টি জানার পর দুই সন্তানের চলাচলের সুবিধার্থে হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও থেরাপির বিষয়ে সহযোগিতার সুযোগও রয়েছে।
জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক নিবাস রঞ্জন দাশ বলেন, পরিবারটির বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। তিন সন্তানের মধ্যে দুজন প্রতিবন্ধী ভাতা পেলেও সৃষ্টি এখনো ভাতা পাচ্ছে না। তার ভাতা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। যোগ্যতা ও বিধি অনুযায়ী পরিবারটি যাতে সরকারি কল্যাণমূলক সুবিধা পায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এর আগে দৈনিক সুনামকণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে আসে পরিবারটির আর্থিক অনটন, চিকিৎসা সংকট এবং তিন প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে বাবা-মায়ের দীর্ঘদিনের সংগ্রামের চিত্র। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি স্বাধীন সূত্রধর অন্যের বাড়িতে কাঠমিস্ত্রির কাজ করেন। প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় করে সংসার চালানোর পাশাপাশি সন্তানদের দেখাশোনা, চিকিৎসা ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে তাঁকে হিমশিম খেতে হয়। স্বাধীন ও শ্রীমতী সূত্রধরের তিন সন্তান সনজীব সূত্রধর (১৮), সৃষ্টি সূত্রধর (১৫) ও সমাপ্ত সূত্রধর (১২)। তিনজনই প্রতিবন্ধী। তাঁদের মধ্যে সনজীব ও সমাপ্ত প্রতিবন্ধী ভাতা পেলেও সৃষ্টি দীর্ঘদিন ধরে ভাতা থেকে বঞ্চিত ছিল। আবেদন করেও ভাতা না পাওয়ায় আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারটি বাড়তি দুশ্চিন্তায় ছিল। প্রতিবন্ধী সন্তানদের দৈনন্দিন চলাচল ও পরিচর্যার প্রয়োজন মেটানোও পরিবারটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সীমিত আয়ে সংসার পরিচালনার পাশাপাশি সন্তানদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সংবাদ প্রকাশের পর দুই সন্তানের জন্য হুইল চেয়ার পাওয়া পরিবারটির চলাচল ও পরিচর্যায় সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংবাদ প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের উদ্যোগে হুইল চেয়ার পাওয়া অসহায় পরিবারটির জন্য স্বস্তির খবর। তবে সৃষ্টির প্রতিবন্ধী ভাতা চালুর বিষয়টি এখনো আশ্বাস ও প্রক্রিয়াগত উদ্যোগের পর্যায়ে রয়েছে। ভাতা কার্যকরভাবে চালু হলে পরিবারের নিয়মিত ব্যয় মেটাতে কিছুটা সহায়তা মিলবে। পরিবারটির জন্য হুইল চেয়ার প্রদান ও ভাতা চালুর উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হলেও তাদের প্রয়োজন এখানেই শেষ নয়। তিন সন্তানের নিয়মিত চিকিৎসা, থেরাপি, প্রয়োজনীয় সহায়ক উপকরণ এবং পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবারটি যেন প্রাপ্য সরকারি সুবিধা পায়, সেটিই এখন প্রত্যাশা।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
সুনামকণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর দুই প্রতিবন্ধী সন্তান পেল হুইলচেয়ার
- আপলোড সময় : ২৮-১০-২০২৬ ০৪:১২:২৭ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৮-১০-২০২৬ ০৪:১৩:১৯ অপরাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ